শৈত্যপ্রবাহ:
আজ সারদেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা তেতুলিয়ায় ৭.৫º সে. রেকর্ড করা হয়েছে। © তথ্যসূত্রে: বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর - BMD

ঢাকা- বিভাগ

আবহাওয়ার ডেটা লোড হচ্ছে...
-
লোড হচ্ছে...
💧 আদ্রতা
-
💨 বাতাস
-
🌧️ বৃষ্টিপাত
-

সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময়

লোড হচ্ছে...

আগামী ৭ দিনের আবহাওয়া

আবহাওয়ার ডেটা লোড হচ্ছে...

 

ঢাকা শহর

ঢাকা বাংলাদেশের রাজধানী এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও বাণিজ্যিক এলাকা। জাতিসংঘের ২০২৫ সালের এক প্রতিবেদনে ঢাকা বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মেগাসিটি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

বর্তমানে এই শহরে প্রায় ৩ কোটি ৬৬ লাখ (৩৬.৬ মিলিয়ন) মানুষের বসবাস, যা এটিকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম নগরীতে পরিণত করেছে।

বিপুল এই জনসংখ্যার দৈনন্দিন জীবনযাপন স্বাভাবিক ও নিরাপদ রাখতে ঢাকার প্রতিদিনের আবহাওয়া পরিস্থিতি জানা অত্যন্ত জরুরি।

ঢাকা জেলার বর্তমান আবহাওয়া ও জলবায়ু বিশ্লেষণ

ঢাকা বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল, যেখানে আবহাওয়া সাধারণত দেশের সামগ্রিক জলবায়ুর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলেও কিছু নিজস্ব বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করা যায়। সাধারণত গ্রীষ্মকালে এই জেলায় তাপমাত্রা তুলনামূলকভাবে বেশি অনুভূত হয়, যা নগরজীবনে অতিরিক্ত ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৬০ সালে ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪২.৩° ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছিল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রবণতা আরও স্পষ্ট হয়েছে। 

বিশেষ করে ২০২৩ ও ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে ঢাকার তাপমাত্রা ৪০° ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি ছাড়িয়ে যায়। এর আগে ২০২০ সালের এপ্রিল মাসে ৪০.৬° ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল, যা গত ৫৮ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ছিল। 

অন্যদিকে বর্ষা মৌসুমে এই অঞ্চলে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে। যার ফলে দেখা দেয় জলাবদ্ধতা । আবার শীতকালে তাপমাত্রা অনেকটাই কমে যায়। মূলত এখানকার ভৌগোলিক অবস্থান এবং বাতাসের গতিপ্রকৃতির ওপর নির্ভর করে বছরের বিভিন্ন সময়ে আবহাওয়ার তারতম্য লক্ষ্য করা যায়। 

ঋতুভিত্তিক আবহাওয়ার ধরন

ছয় ঋতুর এই দেশে প্রায় সব এলাকাতেই ঋতুভিত্তিক আবহাওয়ার স্পষ্ট প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। ঢাকা জেলাতেও এর ব্যতিক্রম নয়। গ্রীষ্মকালে এই জেলায় অত্যধিক গরম ও শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে জনজীবনে অস্বস্তি বিরাজ করে।

বর্ষা মৌসুমে আকাশ সাধারণত মেঘাচ্ছন্ন থাকে এবং নিয়মিত বৃষ্টিপাত হয় যা কৃষিকাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও অতিবৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা জনজীবনে দুর্ভোগ ডেকে আনে।

শীতকালে আবহাওয়া তুলনামূলকভাবে শীতল ও শুষ্ক থাকে। তবে পৌষ, মাঘ ও ফাল্গুন মাসে তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। অন্যদিকে বসন্ত ও শরৎকালে আবহাওয়া সাধারণত মনোরম থাকে, যা নগরবাসীর জন্য স্বস্তির নিঃশ্বাস বয়ে আনে। 

কৃষি ও জীবিকায় আবহাওয়ার প্রভাব

ঢাকায় নগরায়ণ ব্যাপক হলেও শহরের পার্শ্ববর্তী এলাকায় এখনো কৃষিকাজ ও সংশ্লিষ্ট জীবিকা বিদ্যমান। পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত সবজি ও অন্যান্য মৌসুমি ফসল উৎপাদনে সহায়ক হলেও অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতা কৃষিকাজে বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারে।

অন্যদিকে গ্রীষ্মকালের অতিরিক্ত তাপমাত্রা শ্রমজীবী মানুষের কর্মক্ষমতা কমিয়ে দেয়, যা দৈনন্দিন আয় ও জীবিকায় সরাসরি প্রভাব ফেলে।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ঝুঁকি

ঢাকা একটি ঘনবসতিপূর্ণ ও দ্রুত নগরায়ণ অঞ্চল হওয়ায় বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি। বিশেষ করে অতিবৃষ্টির ফলে জলাবদ্ধতা ঢাকার একটি নিয়মিত সমস্যা, যা নগরবাসীর দৈনন্দিন জীবনকে ব্যাহত করে।

এছাড়া ঢাকা ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলের কাছাকাছি অবস্থান করায় মাঝেমধ্যে ভূমিকম্প অনুভূত হয়, যা ভবন ও অবকাঠামোর জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এসব প্রাকৃতিক ঝুঁকি মোকাবিলায় সচেতনতা ও পূর্বপ্রস্তুতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।